খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২ আশ্বিন, ১৪৩৩

শিশুর জন্মগত ত্রুটি কেন হয়, প্রতিকার ও প্রতিরোধে করণীয়

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
শিশুর জন্মগত ত্রুটি কেন হয়, প্রতিকার ও প্রতিরোধে করণীয়

দেশে প্রতিবছর জন্মগত বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে জন্মানো নবজাতকের হার ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ


আজকাল অনেক দম্পতিই সন্তান নিতে দ্বিধায় ভোগেন। স্বাভাবিক সন্তান হবে তো! এমন আশঙ্কার কারণও অবশ্য আছে। ২০২৩ সালের একটি গবেষণা বলছে, দেশে প্রতিবছর জন্মগত বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে জন্মানো নবজাতকের হার ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। জন্মগত ত্রুটি মানে ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময়ই শিশুর গঠনগত কোনো শারীরবৃত্তীয় সমস্যা। অনেক সময় জন্মগত ত্রুটির কারণে শিশুকে বাঁচিয়ে রাখাটাই কঠিন হয়ে পড়ে। নবজাতক শিশুমৃত্যুর প্রায় ৩০-৫০ শতাংশের জন্যই দায়ী জন্মগত ত্রুটি।

জন্মগত ত্রুটির ধরন

শারীরিক জন্মত্রুটি নিয়ে জন্মানো অর্ধেক শিশুর একাধিক অঙ্গের ত্রুটি-বিচ্যুতি লক্ষ করা যায়। পরিমাণ অনুযায়ী এই ধরনের ত্রুটি সাধারণত দুই রকম।

মাইনর ত্রুটি: এগুলো শিশুর জন্য বড় কোনো ক্ষতির কারণ নয়। যেমন অতিরিক্ত স্তনবৃন্ত, বাড়তি আঙুল ইত্যাদি।

মেজর ত্রুটি: এগুলো শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাপনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। যেমন ঠোঁটকাটা, তালুকাটা, হার্টে ছিদ্র, পায়ুপথ না থাকা, স্পাইনা বায়ফিডা (মেরুদণ্ডের জন্মত্রুটি)।

জন্মগত ত্রুটির কারণ কী

শিশুর শারীরিক জন্মত্রুটির ১০ শতাংশ ঘটে জেনেটিক কারণে। ১৮ শতাংশ জন্মত্রুটির কোনো কারণ জানা যায় না। তবে যেসব বিষয় জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ায় বলে বিবেচনা করা হয়, তা হলো—

  • বংশগত কারণ।

  • অপুষ্টিজনিত কারণ।

  • রক্ত সম্পর্কীয় বিয়ে।

  • গর্ভকালীন সময়ে ধূমপান (প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ) ও মাদকাসক্তি, রুবেলা, টক্সো, এইডস ও অন্যান্য সংক্রমণ এবং অন্তঃসত্ত্বা মায়ের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা অনিয়ন্ত্রিত থাইরডের সমস্যা।

  • গর্ভকালে চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া মা যদি বিভিন্ন টনিক নেন, কবিরাজি, গাছগাছালির চিকিত্সা ও ক্ষতিকর ওষুধ সেবন করেন, তেজষ্ক্রিয়তার সংস্পর্শে (যেমন এক্স–রে রেডিয়েশন) আসেন অথবা দূষিত খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করেন, তাহলে গর্ভের শিশুর ত্রুটি দেখা দিতে পারে।

    • সদ্য জন্ম নেওয়া প্রতি ১ হাজার শিশুর প্রায় ৮ জনের হার্টে জন্মত্রুটি থাকতে পারে। বিশেষত, অপরিণত (জন্মকালীন ওজন ২ হাজার ৫০০ গ্রামের নিচে) বা অকালজাত (গর্ভকাল ৩৭ সপ্তাহের কম) নবজাতকে এই সমস্যা দেখা যায় বেশি।

    • হার্টের জন্মগত রোগ মূলত দুই রকম—সায়ানোটিক ও এসায়ানোটিক। সায়ানোটিক গ্রুপের মধ্যে বেশি দেখা যায় ‘ফেলটস টেট্রালজি’। পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে এদের শরীর নীল হয়ে যায়। অন্যদিকে এসায়ানোটিক কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজে শিশুর শরীরে নীলবর্ণ ভাব থাকে না। শিশু ঘনঘন সর্দিকাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হতে থাকে। এসব শিশু বুকের দুধ একনাগাড়ে টানতে পারে না। একটু টেনেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, ঘুমিয়ে যায়। কিন্তু যেহেতু পেট ভরে না তাই অল্প সময়ের মধ্যেই জেগে উঠে কাঁদতে থাকে। অত্যধিক ঘামে। শিশু ঠিকমতো বাড়ে না। বারবার অসুস্থ হয়। বেশির ভাগ হার্টের জন্মগত ত্রুটি সঠিক সময়ে সঠিক চিকিত্সায় সারিয়ে তোলা সম্ভব।

    • বংশগত, জিনের গঠনগত ত্রুটি ও ক্রোমোজোমের অস্বাভাবিকতা কিছু রোগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। যেমন ডাউন ও টারনার সিনড্রোম। গর্ভাবস্থায় জার্মান মিজলস (রুবেলা) সংক্রমণ, ডায়াবেটিস, লুপাস রোগ, ক্ষতিকর ওষুধ সেবন (লিথিয়াম, ইথানল, থালিডোমাইড ও খিঁচুনি বন্ধের ওষুধ) করলে এসব সমস্যা হতে পারে।

    • কাটা ঠোঁট ও কাটা তালুও খুবই পরিচিত একটি জন্মগত ত্রুটি। সঠিক সময়ে অস্ত্রোপচার করে এই ত্রুটি সম্পূর্ণ সারিয়ে তোলা যায়। শিশুর ৩ মাস বয়সের দিকে শিশুসার্জনের মাধ্যমে কাটা ঠোঁট সারিয়ে তোলা যায়। আর ৯-১২ মাস বয়সে শিশু কথা বলতে শেখার আগেই কাটা তালু চিকিত্সা করে ফেলতে হয়।

    • পায়ুপথ না হওয়ার ত্রুটি নিয়েও জন্মায় অনেক শিশু। এ ক্ষেত্রে জন্মগতভাবে শিশুর পায়ুপথ পুরোপুরি তৈরি থাকে না। তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র শিশুর পায়ুপথে রেখে তাপ নির্ণয় করতে গেলে ও শিশু জন্মের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি প্রথম পায়খানা না হয়ে থাকে, তবে শিশুর এই জন্মত্রুটি আছে কি না, সন্দেহ করা হয়। সার্জাারির মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়।

    • হাইপোস্পেডিয়াস সমস্যা নিয়েও জন্মায় শিশু। এ ক্ষেত্রে জন্মগতভাবে শিশুর মূত্রনালির মুখ স্বাভাবিক স্থানে লিঙ্গের অগ্রভাগে না থেকে লিঙ্গের নিচের দিকে মাঝামাঝি দেখতে পাওয়া যায়। অবহেলা না করে অতিসত্বর শিশুসার্জন দেখানো উচিত।

      • প্রতিটি গর্ভধারণ পরিকল্পিত হওয়া উচিত। এতে অনাগত সন্তানেরও জটিলতা কম হয়। কিছু নিয়ম মেনে শিশুর জন্মগত ত্রুটির সমস্যা অনেকটা কমিয়ে আনা যায়। এই যেমন

      • গর্ভধারণের আগে মায়ের রুটিন চেক আপ করে ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, থ্যালাসেমিয়া বা অন্য কোনো জেনেটিক রোগে আক্রান্ত কি না জেনে নিতে পারলে অনাগত সন্তানের সুস্থতা অনেকটাই নিশ্চিত করা যায়।

      • মা যদি আগে থেকে নিয়মিত কোনো ওষুধ সেবন করে থাকেন (যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোনো বাতরোগ বা মৃগীরোগের) তবে আগেভাগে চিকিত্সকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে হবে।

      • নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়েও অনেক শিশুর জন্মগত ত্রুটির কারণ।

      • মায়ের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে থাকা অবস্থায় সন্তান নিলে এবং দুই সন্তানের মধ্যে ন্যূনতম ২ বছর বিরতি থাকলে অনেক ত্রুটি এড়িয়ে চলা যায়।

      • গর্ভধারণের ১ মাস আগে থেকে গর্ভকালীন প্রথম ২ মাস পর্যন্ত মা দৈনিক ৪০০-৮০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট সেবন করলে বেশ কিছু ত্রুটি এড়ানো সম্ভব।

      • গর্ভকালীন অপুষ্টি রোধ, ধূমপান ও মাদকাসক্তি মুক্ত থাকলেও অনেক ত্রুটি এড়িয়ে চলা যায়।

      • গর্ভপূর্ব ও গর্ভকালীন নিয়মিত শারীরিক চেকআপ খুব জরুরি।

      • আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, গর্ভকালীন সময় কোনো ক্রমেই চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাওয়া যাবে না। কারণ, অনেক ওষুধ গর্ভস্থ শিশুর জন্য ক্ষতিকর ও অনিরাপদ। একইভাবে এক্স রে, সিটি স্ক্যানের মতো যেসব পরীক্ষায় তেজস্ক্রিয় রশ্মি ব্যবহৃত হয়, অন্তঃসত্ত্বা মায়ের সেসব পরীক্ষা করা যাবে না। অন্য যেকোনো কারণেই চিকিত্সকের কাছে যাওয়া হোক না কেন, তাকে জানাতে হবে যে রোগী অন্তঃসত্ত্বা। এমনকি সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করলেও জানাতে হবে। এতে সব দিক বুঝে চিকিত্সক প্রেসক্রাইব করতে পারেন।

        আজকাল আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে নানা রকম পরীক্ষা করে শিশুর অস্বাভাবিকতা আছে কি না, আগে থেকেই জানা যায়। গর্ভকালীন ২০ সপ্তাহের পর (১৮-২২ সপ্তাহ) জন্মগত ত্রুটি আছে কি না, জানার জন্য একটি বিশেষ ধরনের আলট্রাসনোগ্রাম করা হয়। একে বলে অ্যানোম্যালি স্ক্যান। প্রয়োজন মনে হলে গর্ভস্থ শিশুর জন্মগত ত্রুটি নির্ণয়ে গর্ভকালে মায়ের রক্তে আলফা ফিটো প্রোটিনের মান, অ্যামনিওসেনটোসিস বা কোরিওভিলাস বায়োপসি ইত্যাদি করা যায়।

        পরিবারের সচেতনতা অনাগত শিশুর জন্মগত ত্রুটি এড়াতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। প্রতিটি শিশু সুস্থভাবে জন্ম দিতে তাই গর্ভধারণের আগে থেকেই গর্ভকালে সঠিক সিদ্ধান্ত জরুরি।

        লেখক: সাবেক বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

সাঁথিয়া প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ইউএনও'র মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাঁথিয়া প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ইউএনও'র মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ছবিতে মতবিনিময় সভা

 সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি:

সাঁথিয়া প্রেসক্লাবের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত  উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম আহমেদ এর  মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে  সাঁথিয়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে  এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

নবাগত ইউএনও  সেলিম আহম্মেদ জানান, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ বা আয়না। জনগণের সমস্যা ও প্রত্যাশা তুলে ধরতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিতে এবং স্থানীয় জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সমন্বিত উদ্যোগ জনগণের কল্যাণে কার্যকর অবদান রাখবে। তিনি একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব উপজেলা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মতবিনিময় সভা সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সাঁথিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক বাংলার সাঁথিয়া প্রতিনিধি সহকারী অধ্যাপক  আব্দুল হাই, সেক্রেটারী ও বাংলাদেশ বুলেটিন এর প্রতিনিধি ফারুক হোসেন,  সাবেক সভাপতি দৈনিক  দিনকালের সাঁথিয়া প্রতিনিধি আলী আহসান মন্জু, দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি  সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদিন রানা, দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি সাবেক সভাপতি মানিক মিয়া রানা, দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি সহ-সভাপতি জালাল উদ্দিন, আর টিভির উত্তর প্রতিনিধি ও আমার দেশ প্রতিনিধি  সহ সাধারণ সম্পাদক তাইজুল ইসলাম ও আরিফুল ইসলাম,  দৈনিক খোলা কাগজের প্রতিনিধি মনসুর আলম খোকন, দৈনিক আজকের  কাগজের  প্রতিনিধি ও দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি সাবেক সাধারণ সম্পাদক  আবুল কাশেম ও  উজ্জ্বল হোসেন,দৈনিক  ভোরের দর্পনের প্রতিনিধি  সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক আসিক ইকবাল রাসেল,  দৈনিক আমাদের সময়ের প্রতিনিধি  সাহিত্য সম্পাদক আবু ইসহাক, দৈনিক জনতার প্রতিনিধি  কোষাধক্ষ্য আবু সামা, চ্যানেল এস টেলিভিশন এর পাবনা জেলা প্রতিনিধি এম.জে সুলভ, দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি লুৎফর রহমান উল্কা,  আনন্দ টিভির সাঁথিয়া প্রতিনিধি মনোয়ার পারভেজ মানিক,  দৈনিক গণকণ্ঠের প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির, দৈনিক বাংলা খবর প্রতিদিনের প্রতিনিধি তোফাজ্জল হোসেন সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

গাজীপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তালা, কাটাতার ভেঙে প্রবেশ করলেন এমপি, পেলেন না চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:৫৯ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গাজীপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তালা, কাটাতার ভেঙে প্রবেশ করলেন এমপি, পেলেন না চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী

কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। ছবি যোগফল

মো: সজিব | শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে প্রধান ফটক তালাবদ্ধ অবস্থায় পান গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে তালা ভেঙে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
এমপি রফিকুল ইসলাম বাচ্চু জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রবেশের সময় প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কেউ গেট খুলতে না আসায় একপর্যায়ে দেয়াল টপকে কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি।
ভেতরে গিয়ে কোনো চিকিৎসক, মেডিকেল অফিসার বা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীকে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় পাননি বলে জানান তিনি। তবে চারজন স্বাস্থ্য সহকারীকে সেখানে বসে গল্প-আড্ডা দিতে দেখেছেন বলে দাবি করেন এমপি।
রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, “হাসপাতালের গেট দেখে মনে হয়েছে, এই তালা কত বছর আগে লাগানো হয়েছে! তালাটিতে একেবারে মরিচা ধরে গেছে। অনেক সময় অপেক্ষা করে একপাশের দেয়াল টপকে কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করি। এখানে কোনো স্বাস্থ্যকর্মী নেই, চিকিৎসক নেই, মেডিকেল অফিসারও নেই। কয়েকজন কর্মচারী ভেতরে বসে গল্প-আড্ডায় মেতেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “গাজীপুর ইউনিয়ন একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল। এখানকার মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। উপজেলা শহর কিংবা জেলা শহরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়াও তাদের জন্য কষ্টসাধ্য। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে ইউনিয়ন ফ্যামিলি প্ল্যানিং ইনস্পেক্টর হাসান আল মামুন বলেন, “স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রধান ফটকের চাবি ভুলবশত বাড়িতে রেখে আসছি।”
অন্যদিকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আপেল মাহমুদ বলেন, “স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাঁচটি পদের বিপরীতে বর্তমানে একজনও নেই। কয়েকজন মাঠকর্মী মাঠে যাওয়ার আগে সেখানে মিটিং করেন। হঠাৎ করে এমপি সেখানে যাওয়ার কারণে এমন পরিস্থিতি হয়েছে।”
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়ায় নিয়মিত কার্যক্রম ও জনবল সংকট নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

যোগফল অনলাইন নিউজ ডেস্ক 

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল ও মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | যোগফল অনলাইন

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর নিজ দপ্তরে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন, পর্যটন এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে সরকার এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে কাজ করছে। বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উদ্বোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে বিশ্বখ্যাত লিগ্যাসি এয়ারলাইন্স হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বোয়িং কোম্পানির তৈরি উড়োজাহাজগুলোর ডেলিভারি দ্রুত করা অত্যন্ত জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে FAA International Aviation Safety Assessment (IASA) Category-1 Status গুরুত্বপূর্ণ। ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিকের যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় আগামী বছর ঢাকা-নিউইয়র্ক (JFK) রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

পর্যটন খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। দেশের প্রায় ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পটকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে বর্তমান সরকার।

সাক্ষাৎকালে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশের এভিয়েশন হাব হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকবে। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে। ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের পর্যটন খাতের প্রচারে রাষ্ট্রদূতের বিভিন্ন পর্যটন স্পট সফরের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

যোগফল অনলাইন নিউজ ডেস্ক